আলী মুহাম্মদ লিয়াকত এর একগুচ্ছ কবিতা

বিশ্বাসে বিবর্তনে বিপ্লবে
সমাগত সভাসদ ও সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ
আমি কবি হতে এখানে আসিনি,
কারণ কবিতার আজকাল আর পাঠক নেই,
আছে কিছু আত্মম্ভবী আত্মভোলা লোক।
আমি উপদেশ বিতরণ করতে আসিনি-
কারণ জানি, বিষয়টা মূর্খদের বড় অপছন্দ।
আমার কাছে কোন ঐশীবাণী বা ওহি নাই,
যা দিয়ে আপনাদের করতে পারি সম্মোহিত।
আমি ভাষণ দিয়ে শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে আসিনি,
কারণ, ভন্ড প্রতারকেরা বিষয়টিতে অতি সুপটু।
আমার কোন কিছু বলার অবকাশ নেই,
কারণ, কতিপয় ধূর্ত মহাজনেরা,
লোভ-লালসা আর ভয়ভীতির সংমিশ্রণে,
এমন সুস্বাদু জুস বাজারজাত করেছে,
ভবিষ্যতে কেউ কোন কথা বলার সাহস
যাতে না দেখাতে পারে তার জন্য,
জ্ঞানকে প্যান্ডোরার বাক্স বানিয়ে
এমন করে সিল-গালা মেরে দিয়েছে,
যাতে করে কোন কিছু জানতে গেলেই সমূহ বিপদ।
আমি স্বাধীনতার কথা বলতে এসেছি- যা
পেয়েও আপনারা তার সুফল ভোগ করতে পারচ্ছেন না।
কারণ, আপনারা স্বাধীনতার মর্ম কী তা বোঝেন না।
অথবা শাসক আর শোষকের সুগভীর ষড়যন্ত্রে
তন্ত্রে-মন্ত্রে শহিদী বেহেস্ত পাবার মোক্ষম
জিহাদ-শব্দটি এমন সুন্দরভাবে রপ্ত করে ফেলেছেন
যে-এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া বড়ই কঠিন
তাই আমি বিশ্বাসে বিবর্তনের চেতনা ও বিদ্রোহের কথা।
পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
স্বাধীনতা শব্দটি যদি আপন করে ভালবাসতেই চান
তাহলে মানবকল্যাণে বিশুদ্ধ হয়ে
বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসে বিপ্লব আনতেই হবে।
ছোট্ট ছিলেম, বেশতো ছিলেম
বেশ ক’টা দিন ছিল বটে আনন্দেতে ভরা
জন্ম হলো কেমন করে তা-ও জানি না,
অবাক চোখে বিশ্বটাকে হঠাৎ করে দেখা।
মায়ের মুখের দিকে চেয়ে অমৃত দুধ পান
হামাগুড়ি হাটা থেকে দৌড়াদৌড়ি শুরু,
খেলনা দোলনা নিয়ে ছিলো সঙ্গী সাথে খেলা
পুতুলের বিয়ে দিতে লাগতো ভারি মজা।
মার্বেল, লাটিম, লাটাই ছেড়ে ধরতাম বুড়ি চোর,
কানামাছি ভোঁ-ভোঁ খেলা, এক্কা-দোক্কা শেষে
ফুটবল আর হাডুডু-তে সময় গেল বেশ।
ধীরে ধীরে এর-ই ফাঁকে স্কুল কলেজ পড়া
ভার্সিটিতে আসার আগেই প্রেমের হলো শুরু
বক্ষ দুরু দুরু ছিল কি জানি কী হয়।
প্রেমক যখন হাঁটতো চলতো অন্যের হাত ধরে
তখন থেকে বুঝে গেছি ভালোবাসার ভাষা।
পুতুল বিয়ের বেলা শেষে নিজের হলো বিয়ে
বছর খানেক কাটলো বটে আনন্দে দিনরাত।
এরই মাঝে ধারের খাতায় উঠলো হাজার বিশেক
অল্প আয়ের সংসারে লাগলো টানাটানি।
ছেলেমেয়ে যত বাড়ে তত ঘানি টানা
বাধ্য হয়ে টানি বটে, সাধ্যে কি আর কুলায়
বউ তবু বায়না ধরে নিত্য ফুলায় গাল।
ঘুষ দিয়ে অবশেষে ধরছি ঘুষের চেয়ার
এক দু’হাজার পেলে অমনি বউ নিয়ে যায় কেড়ে
তবু বলবো সুখে আছি, বউ খেতে দেয় ভাত।
অসুখ বিসুখ নিয়ে দু’জন করছি জীবন শেয়ার
ছোট্ট ছিলেম বেশতো ছিলেম, ক্যান্ যে হলেম বড়ো
বড়ো হওয়ার বিড়ম্বনায় জীবন জড়ো-সড়ো
চুল পেকেছে, টাক পড়েছে, দাঁতগুলোও বড্ড্ নড়ো- বড়ো।
বিজয়ের কান্না
বিজয় মানে একটি শব্দ, একটি জাতির আশা,
ন’মাস ধরে যুদ্ধে দেখেছি এ ক্যামন ভালোবাসা।
বন-বাদাড়, ঝোপ-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত শেষে,
হিংস্র ব্যঘ্র শিকার করেছি আমরা বিজয় বেশে।
বায়ান্নার ভাষা আন্দোলনে যে শিশুটি গর্ভে ছিল,
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সেই সে জন্ম নিল।
বেজন্মারা জন্মেছে অনেক, পাঁচাত্তরেই তা বুঝি,
বিয়াল্লিশ পার হয়ে তাই স্বাধীনতা আজো খুঁজি।
স্বাধীনতা তুমি চাঁদের জোছ্না, বিজয়ের লাল সূর্য,
তোমাকে আগলে রাখতে বুকে ধ্বনিত আজো তুর্য।
স্বাধীনতা চেয়েছি, বিজয় এনেছি, গড়েছি বাংলাদেশ,
মুক্তিযুদ্ধ বলতে যা বুঝি আজো তা হয়নি শেষ।
সেদিন যারা স্বপ্ন দেখেছে, ধরেছিল হাতে অস্ত্র,
আজো যে তারা বাস্তুহারা, কোথায় খাদ্য-বস্ত্র?
দান নয় কোন, বক্শিশ নয়, দাও তাদের অধিকার,
তারাও মানুষ, তারা চায় শুধু অন্যায়ের প্রতিকার।
হায়রে স্বাধীনতা
স্বাধীনতা তুমি বন্দী আজ, নানারকম ফন্দিতে,
অধর্মের আফিম খেয়ে চলছো বিশেষ সন্ধিতে।
কেউটে, গোখরা, এনাকোন্ডাদের তীক্ষ্ম বিষদাঁত,
কুটি কুটি করে চিবিয়ে খাচ্ছে সবুজ কচিপাতা।
ছোট্ট কুঁড়িগুলো তাই যাচ্ছে শুকিয়ে,
পাপড়িরা আর পারছে না হতে বিকশিত।
সুবাসিত করছে না ফুলের বাগান
দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ আর দলবাজ
তলে তলে একসাথে একপাতে।
হাভাতের মত গিলছে তো গিলছেই
ব্যাংক, বাজেট, রাজকোষে রক্ষিত যত টাকা
ভুঁইফোড় ভুঁড়িওয়ালাদের দাপটে
সমাজ রাষ্ট্র আজ ক্ষত বিক্ষত।
দুর্নীতি আর ঘুষের সন্ধান পেলেই।
কী ধর্ম? কী শিক্ষা? গানে সুর তোলে টাকা বান্ডিলে
নীতিবাগিশ বণিকেরা? নাকি রাজনীতিবিদদেরা?
মদখোর বদ বুদ্ধিজীবি কেনা-বেচা করে
প্রতিরাতে টকশোতে ফাটাফাটি গলা।
ভাব যেন ইজারা নিয়েছে তারা, তাস-পাশা খেলা
অশ্লীল মনে হয় সুশীলদের কথা।
তেতাল্লিশ বৎসর ধরে একাত্তরের চেতনা
নিয়ে যে টানাহেচড়া চলছে তো চলছেই।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের সঠিক চিত্রটিÑ
ডিজিটাল পদ্ধতির ডামাডোল বৈপরীত্যে
হয়তো এ জীবনের আর দেখা হবে না।
ভন্ডামির মহাযাত্রা
বিভেদ- বিভাজনের দেশে কী আর হবে নীতি
ইচ্ছেমত আপন সুরে গাচ্ছে সবাই গীতি।
কেউবা দিচ্ছে আল্লাহর দোহাই, কেউবা জনগণের
মাঝখানেতে ডঙ্কা বাঁজে ভীষণ একটা রণের।
ঘন-ঘন হরতালে আজ দেখি পোড়া গাড়ী
ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে এবার দেব বিদেশ পাড়ি।
আমজনাতার নাই সে কপাল, তারা আছে ফাঁদে
আপন স্বজন হারিয়ে এখন অনেকেই কাঁদে।
মায়ের চেয়ে মাসির দরদ কেউ বা আবার দেখায়
মিথ্যে খোরাক জোগায় দেখি কেউ না কেউ লেখায়।
টক-শো মাঝে বুদ্ধিজীবির শুনি উচু গলা
নিন্দুকেরা বলে এসব দলের ছলা-কলা।
কেউ বলে না অর্থনীতির ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়ো
এ দেশেতে চিরতরে হরতাল বন্ধ করো।
আপোষ আলোচনার আগে চুক্তি করো সই
হরতাল বন্ধ আইন করে বাংলায় সুখে রই।
নিরপেক্ষ নির্বাচন স্বচ্ছ হোক চাই
কে আসবে ক্ষমতায় তা বলবে জনতা-ই।
শুভেচ্ছাবাণী
জন্ম মানে একটি প্রাণের ধীরলয়ে বেড়ে ওঠা,
সবুজ পাতার বাহার থেকে ঠিক যেন সে ফুলটি ফোটা।
ফুল যেমন ফুটলেই গন্ধ সে বিলায়,
যৌবনকাল ঠিক তেমনি প্রেমে মিলায়।
জীবন হলো দেহ-মনের কাম-কামনা,
চাওয়া-পাওয়ার বৃত্তে বন্দি সব বাসনা।
এরই মাঝে চলতে থাকে মন-মননের খেলা,
অগ্রগতির পথে পথে জাগরণের মেলা।
যুক্তিপথে মুক্ত-রথে একটু চলে দেখ।
বিবেকটা জাগিয়ে তুমি না হয় কিছু লেখ।
তোমার লেখা জাগায় যদি হতাশ মনে আশা,
দুঃখি জনগণের তুমি পাবে ভালোবাসা।
সত্য-ন্যায়ের পথে যদি চলতেই তুমি চাও,
অন্ধকার কুসংস্কারে পা দুটি না বাড়াও।
স্বার্থপরের কাছে বেকার ওয়াজ-নছিহত ঢালো,
যে করেনা কারো ক্ষতি সেই লোকটাই ভালো।
আজ হোক কাল মরতে হবে, ধ্রুব এটা ঠিক,
তাই বলে কী বেকুব হয়ে ছুটবে দিক্-বিদিক।
মাটির দেহ মাটি হবে শুনতে লাগে ভালো,
তাইতো বলি মরার আগে মনের প্রদীপ জ্বালো।
বিলিয়ে যাও তোমার মাঝে যেটুক আছে আলো।
ঘুঁচিয়ে দাও রাতের আঁধার কয়লা মনের কালো।
দুর্নীতি
দুর্নীতি নামক ফল খেতে ভারি মিষ্টি,
হাজার বছর ধরে আছে এর কৃষ্টি।
দুর্নীতির নামে আছে একটিমাত্র দল,
অফিস আর আদালতে, সবখানে যার চল।
যেখানে যান না কেন, কোন কাজ নিয়ে,
কাজের কথা বলতে হবে পয়সা-কড়ি দিয়ে।
দুর্নীতির সুফল কিন্তু দুজনেই পায়,
একজনে খাওয়ায়, আর অন্য জনে খায়।
রাজকোষ পায়না সঠিক ট্যাক্স বা ফিস,
জনগণের সুযোগ সুবিধা তাইতো হয় মিস।
সঠিক কাজ হয় না বলে ব্রিজ ধ্বসে পড়ে,
রাস্তা-ঘাটের চেহারাটা থাকে নড়বড়ে।
ট্যাক্স অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব মিলে দেশ,
ঘুষের কানাঘুষাতে দেশটা হচ্ছে শেষ।
যার যত ক্ষমতা আর পাতা বড় চেয়ার,
আইনকে গাইন করে খায় ঘুষ শেয়ার।
দুর্নীতিবাজদের ধরা অতি সহজ কাজ
ড্রয়িংরুমে ঢুকলেই দেখবে কত সাজ।
নামি দামী টেলিভিশন, ডবল ডবল ফ্রিজ
এয়ারকুলার, ইলেকট্রিক ওভেন, শো-কেছ ভরা চীজ।
ঘর ভাড়া দিতে যার বেতন হয় শেষ
তার আছে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালান্স বেশ।
এদেরকে ধরা অতি বড়ই সহজ কাজ
শুধু চাই একটি মাত্র দুর্নীতিমুক্ত রাজ।
শীতের কাঁপন
পাতায় পাতায় জমা নিশির শিশির,
কুয়াশার চাদরে ঢাকা ঘাসের বিছানা।
কপোত বুকের ওমে প্রেমের প্রদীপ।
রাতের বরফ ভেঙ্গে সূর্যের হাসি।
জড়াজড়ি করে থাকা পাখিদের গান
জামদানী শাড়ী পরা শীত শীত স্বাতি
উঠোনে ছিটানো মিষ্টি রোদের ছোঁয়া
আমলকির ডালে ডালে তীব্র কাঁপন।
পুষ্পকলি ভিরু ভিরু চোখে চেয়ে থাকে,
উত্তর প্রবাহ এসে দক্ষিণে প্রবেশ
ঋতুপর্ণা প্রকৃতি হিমাবহ চরণ।
ভাপা-পুলিপিঠা খাই তোমাকে পেয়ে
নবান্নের ঘ্রাণে পাই বাঁচার আমোদ
শাক-সব্জী ভরা মাঠ আনন্দেতে নাচে।
সবুজের পাতা ঝরে হিমেল ছড়িতে
বনবীথি খুলে ফেলে গাত্র-অলংকার
স্যুট-কোর্ট -লেপ-কম্বল জাঁকালো প্রাণী
ফিরেও দ্যাখেনা আছে কত যে টোকাই,
খড়-কুটো আগুন যাদের একটু কাপড়।
জন্মটাই পাপ
জন্ম যদি না নিতাম সেটাই ছিল ভালো,
দেখতে আমার হতো না মানুষ এমন কালো।
এক যদি হয় ঈশ্বর, আল্লাহ্ এক যদি গড, ভগবান,
তাহলে তো সব মানুষের হবার কথা এক সমান।
বিষয়টা নয় এত সহজ, এই কথাটা নয়তো শেষ,
ধর্ম-বর্ণ গোত্র-লিঙ্গে চলছে নিত্য দ্বেষ-বিদ্বেষ।
ভন্ডামি আর গুন্ডামিতে বিশ্ব যখন ভরা,
বাঁচার চেয়ে তখন ভালো চটজলদি মরা।
যখন আমি মরে যাব, থাকবেনা আর কিছু,
নিন্দুকেরা তখনও কি ছাড়বে আমার পিছু,
নিশ্চয়তা কোথায়—?
কালো মানুষ ঠিকই থাকবে, আশে পাশে যেথায়!
বলবে তারা- এই লাশটা হিন্দু না মুসলমান?
জায়গা এর কোথায় হবে- কবর না শ্মশান।
নাস্তিক হলে ধরবে কি?
দায়টা তোমার ভাবছো নি?
আগে ভাগে করে যাও, দেহটাকে দান,
লাশকাটা ঘরে না হয় হলোই স্থান।
কে তুমি আমাকে ডাকো
চাঁদের জোছনা আর সূর্যরাঙা আলো,
নীল নীল নীলিমা খেলা চলে ভালো।
এ্যাটম প্রোটন ফেটে ফোটনেতে তুমি,
বিদ্যুৎ চমকে জানি সেখানেও তুমি।
সবখানে তুমি আছ, কিন্তু তুমি নাই,
কারণ, কোথায় তুমি দেখা যে না পাই।
আমার প্রকাশে আছে তোমার বিকাশ,
চিন্তা চেতনায় সব হিসাব-নিকাশ।
তুমি ছিলে, তুমি আছ, থাকবেই তুমি,
যতক্ষণ বিচরণ এই বিশ্বভূমি।
লক্ষ লক্ষ কেয়ামত ঘটুক প্রলয়,
মহাবিশ্ব তখনও থাকবে নিশ্চয়।
বিশ্বকে বিলীন করা যাবে না যেমন,
তেমনি থঅকবে তুমি তখনো এমন।
তুমি কি বলতে পারো, কে তোমার পিতা?
অমনি অমনি বিশ্ব ধরে নাও মিতা।
মতের বদল সাথে বদলায় পথ,
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মমতে চলে ভিন্ন রথ।
রসুল পয়গম্বর, দেব অবতার,
লক্ষ লক্ষ পাঠিয়েছ কত শতবার।
বলেনি তো এককথা মুখে উচ্চারণ,
সেখানেই বিভেদের ঘটেছে কারণ।
আদম হাওয়া কেউ ছিলনা তো কালো,
এক জেনেটিকে রং কেন বদলালো।
চল্লিশ হাত মানুষ, চার হাত কেন?
উত্তর কিছুই নেই, ভাল করে জান।
সমুদ্রে ফেলে দেওয়া একটি শিশির,
বিন্দু শত সিন্ধু মাঝে যেমনি লুকায়।
তেমনি শ্বাস-প্রশ্বাস বাতাসের গায়,
যায়না পৃথক করা, ফাগুন আবির।
তদ্রুপ বিলীন তুমি কণায় কণায়,
অন্ধকার মাঝে তবু থাকবে গণায়,
শুণ্য মহাশূণ্য মাঝে আলোয় আঁধার,
রূপে অপরূপ তুমি ফিরবেনা আর।
কাল মহাকাল কোথা থামাবে কে তাকে,
সীমাহীন বিশ্ব রেখা টানবেটা কে?
স্থান-কাল-পাত্র ভেদে হয় রূপান্তর,
চিন্তা চেতনায় ঘটে নিত্য যুগান্তর।
রৌদ্র প্রজ্জ্বল সকাল আগামীর সাঁঝে,
তোমাকে পাবোই পাব রহস্যের মাঝে।
অদৃশ্য ইশারা ব্যর্থ প্রেমের সমান,
বৈজ্ঞানিক ভালোবাসা, পায়না প্রমাণ।
তোমার ইঙ্গিত ছাড়া পাতা নাহি নড়ে,
কার সে ইঙ্গিতে তবে পাপ- খন্দে পড়ে?
বান্দার নিকট চাও শুধু আরাধনা,
এক নয়, ভিন্ন কেন পুজা উপাসনা?
এক যদি হও সত্ত্বা, এক করে দাও,
মানুষের উপযোগী পৃথিবী বানাও।
লেখকঃ মনবতার কবি ও সাহিত্যিক