বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৪ অপরাহ্ন
Notice :
পরীক্ষামূলক আয়োজন চলছে। শীঘ্রই আসছি পূর্ণাঙ্গরূপে।

প্রান্তিক চাষিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৭ Time View
Update : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩

পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসকরণ। এবং পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের সদস্যদেরকে কেন্দ্রভুক্ত করে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্ত ঋণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড ও ক্ষমতায়নে এসব পরিবারের নারীদেরকে সম্পৃক্তকরনের মহত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন(এসএফডিএফ) নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন দেশের ৩৬ জেলার ২০০ উপজেলাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসএফডিএফ ২৮৪.৮৬ কোটি টাকা আবর্তক ঋণ তহবিল এর মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।৮২৪১টি কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে।ক্রমপূঞ্জিত সদস্য ভূক্তি ২,৫৪৭২৫ জন। ক্রমপূঞ্জিত সঞ্চয় জমা ১৫৪৬০.২০ টাকা। ঋণ বিতরণ করেছে ১৭২৪১১.৯৭ টাকা। এবং ৪৬,৩৮৯৬ জন নারী সুফলভোগিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আর এই কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: জাকির হোসেন আকন্দ।
ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে:
গ্রামীণ ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের পুরুষ ও মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয়ের উৎস বাড়ানো এবং তাঁদের আয় বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।
ফাউন্ডেশনের অভিষ্ট জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ,পরিচালনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
সুফলভোগী সদস্যদের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের সংগঠিতকরণ, তদারকী করা, সমন্বয় সাধন, পরিচালনা ও সহযোগিতা করা।
ফাউন্ডেশনের সুফলভোগী সদস্যগণকে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।
ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গঠিত কেন্দ্রের সদস্যদেরকে ‘জামানত বিহীন’ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
কেন্দ্রভূক্ত সদস্যদেরকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমার মাধ্যমে নিজস্ব কেন্দ্রের পুঁজি গঠনে উদ্বুদ্ধকরণ।
ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা,কর্মচারী ও কেন্দ্রভূক্ত সুফলভোগী সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহণ করা। বিশেষ করে সুফলভোগীদেরকে আয় বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কেন্দ্রভূক্ত সদস্যদের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড যেমন-শিক্ষা, স্বাস্থ্য-পুষ্টি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবার কল্যাণে পরিকল্পনা গ্রহণ ও সহযোগিতা প্রদান।
সুফলভোগী সদস্যদের কর্মসংস্থান এবং আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডের জন্য নতুন নতুন এবং যথোপযুক্ত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান, প্রচার ও প্রয়োগে উৎসাহিতকরণ ও কার্যকর প্রচেষ্টা গ্রহণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
কেন্দ্রভূক্ত সদস্যদের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে প্রাসঙ্গিক তথ্য, উপদেশ অথবা অন্যান্য সেবায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে গবেষণা কর্ম পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণ।
আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সেমিনার, কর্মশালা ও সম্মেলনের আয়োজন করা।
ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন, সাময়িক পত্র, প্রবন্ধ, বুলেটিন, জার্নাল এবং বই প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
সর্বোপরি ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, সামাজিক, বাণিজ্যিক, কৃষি শিল্প সংস্থান কর্মকান্ডের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এর চলমান প্রকল্প হচ্ছে- “রুপকল্প ২০৪১: দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র সঞ্চয় যোজন”
প্রকল্পের মেয়াদকাল হচ্ছে জুলাই-২০২২ হতে জুন ২০২৫ পর্যন্ত।
সমাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সহায়তা প্রকল্প (১ম পর্যায়)
প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল- জুলাই-২০০৯ হতে জুন ২০১৪ পর্যন্ত।
দারিদ্র্য বিমোচনে এসএফডিএফ কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প। প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল জুলাই-২০১৩ হতে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত।
এবং ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সহায়তা (২য় পর্যায়) প্রকল্প । প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল জানুয়ারি-২০১৬ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছরে কুমিল্লা, বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলার ৩টি সদর থানায় পরীক্ষামূলকভাবে “ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন শ্রমিক উন্নয়ন প্রকল্প” কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক পরিলক্ষিত হওয়ায় জুলাই ১৯৮৮ হতে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ১১টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। জুন ১৯৯১ সনে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন সমাপ্ত হয়।
১৯৯১-৯৬ইং মেয়াদে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নকালে বরিশাল জেলার ৪টি ও ভোলা জেলার ৩টি উপজেলাকে সম্পৃক্ত করণের মাধ্যমে ২১ টি উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬-৯৯ মেয়াদে প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন হয়। তৃতীয় পর্যায় বাস্তবায়নকালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় কার্যক্রম মূল্যায়নপূর্বক ১৯৯৯-২০০৪ মেয়াদে প্রকল্পটি একটি “প্রদর্শনীমূলক” কর্মসূচী হিসাবে বাস্তবায়ন সমাপ্ত হয়। প্রদর্শনীমূলক সময়ে চাঁদপুর জেলার ৩টি, ময়মনসিংহ জেলার ৩টি, ভোলা জেলার ১টি ও বরিশাল জেলার ১টি সহ মোট ০৮টি উপজেলাকে প্রকল্পভূক্ত করার মাধ্যমে ০৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। প্রদর্শনীমূলক কার্যক্রম বিভিন্ন মূল্যায়নে আশাব্যঞ্জক প্রতিফলিত হওয়ায় প্রকল্পটিকে সারা দেশে ব্যপ্তি করার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। প্রকল্পটিকে মেয়াদ সমাপনান্তে বিদ্যমান সম্পদ ও দায়দেনাসহ ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের ২৮ ধারার বিধানমতে যৌথ মূলধন কোম্পানী ও ফার্ম সমূহের পরিদপ্তর হতে নিবন্ধন গ্রহণের মাধ্যমে “ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ” নামে একটি লিমিটেড কোম্পানীতে রূপান্তর করা হয় ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের ২৮ ধারার বিধান মতে যৌথ মূলধন কোম্পানী ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর হতে নিবন্ধন গ্রহণের মাধ্যমে “ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ” নামে এ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়।
সূত্রমতে,জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক ১৯৭২ সালে এশিয়া অঞ্চলের ৮ টি দেশে ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীনদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়নের জন্য সুপারিশমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে অংরধহ ঝঁৎাবু ড়হ অমৎধৎরধহ জবভড়ৎসং ধহফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ (অঝঅজজউ)” শীর্ষক একটি ষ্টাডি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রতিবেদনের মুল পর্যবেক্ষণ ছিল প্রচলিত উন্নয়ন ব্যবস্থায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী উন্নয়ন প্রচেষ্টা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে এবং এদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে গ্রামীণ দরিদ্রদের সকল প্রকার সেবা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গ্রাম পর্যায়ে দরিদ্রদের নিয়ে একটি ‘গ্রহণকারী ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা এবং ‘প্রদানকারী ব্যবস্থা’কে ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করা হয় ।
তখন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন শ্রমিক উন্নয়ন প্রকল্প (এসএফডিপি) নামক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) কুমিল্লা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়া কর্তৃক ১৯৭৬-১৯৮০ সময়ে এবং ১৯৮০-১৯৮৪ পর্যন্ত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত হয়। অতপর ১৯৮৫ হতে ২০০৪ পর্যন্ত বার্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতে একে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্রের আওতায় সংগঠিত করে উৎপাদন, আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য হ্রাসকরণ।
ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফাউন্ডেশন গঠনের প্রাক্কালে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ হতে গঠিত ‘টাস্ক ফোর্স’ কর্তৃক সুপারিশকৃত আবর্তক ঋণ তহবিল নিয়ে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ফাউন্ডেনের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের দেশের ৮টি বিভাগের ৩৬টি জেলার ২০০ টি উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মোদ্দাকথা, গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাসরত ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর