বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ন
Notice :
পরীক্ষামূলক আয়োজন চলছে। শীঘ্রই আসছি পূর্ণাঙ্গরূপে।

পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩
পিডিবিএফ এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অতিথিবৃন্দ-ফাইল ছবি

গ্রামীণ জনপদে পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্বাবলম্বিতা অর্জনে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যার কান্ডারির ভূমিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মউদুদউর রশীদ সফদার। তিনি পিডিবিএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে স্বমহিমায় এগিয়ে চলছে।
সূত্রমতে, বিগত দু’দশকে পল্লীর দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে পিডিবিএফ-এর অর্জন খুবই উল্লেখযোগ্য। অগ্রযাত্রার পথচলায় এখন পর্যন্ত পিডিবিএফ ৫৫ টি জেলায় ২৭ টি অঞ্চলাধীন ৩৫৭ টি উপজেলায় ৪০৩ টি কার্যালয়ের মাধ্যমে পল্লীর প্রায় ৩২ লক্ষ পরিবারের ৯৫ লক্ষ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন পরিসেবার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।
পিডিবিএফ’র প্রশাসনিক বিভাগের সংখ্যা-৮টি, প্রশাসনিক জেলার সংখ্যা-৫৫টি, আঞ্চলিক কার্যালয়ের সংখ্যা-২৭টি, প্রশাসনিক উপজেলার সংখ্যা- ৩৫৭টি, উপজেলা/অনু শাখা কার্যালয়ের সংখ্যা-৪০৩টি। বর্তমানে “দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়)” শীর্ষক একটি প্রকল্প অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও জনবল অনুমোদন পরবর্তী চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যে একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দেশব্যাপী পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
পিডিবিএফ-এর ক্রমপুঞ্চিত সুফলভোগীর সংখ্যা: ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি-৩০,০৯,৫২৬ জন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি-১,১৭,২৫৮ জন, নারী উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি-৮৪,৬৯৪ জন, কোভিড-১৯ প্রণোদনা ঋণ কর্মসূচি-১৫,২১৩ জন।
সুফলভোগী সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান: নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ-৪,৪২,৩৭৩, আয়-উৎসারী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ-১,২৭,৮৭৩ জন।
ক্রমপুঞ্চিত ঋণ সহায়তার পরিমাণ: ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি-১৫,০৪৩.৬৬ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি-৫,৬১৫.৬২ কোটি টাকা, নারী উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি-১,১৫১.৮৬ কোটি টাকা এবং কোভিড-১৯ প্রণোদনা ঋণ কর্মসূচি-৩১৩.৫২ কোটি টাকা।
সুফলভোগী সদস্যদের সঞ্চয়ের মাধ্যমে সঞ্চিত পুঁজির পরিমাণ-১,৪২০.৭৮ কোটি টাকা।
সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন: পিডিবিএফ নিজস্ব ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎবিহীন গ্রামীণ জনবসতি আলোকিত করার লক্ষ্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে। পিডিবিএফ সৌরশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে-৪৩,৬০০টি, টিআর/কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে-৬,৪৫৩টি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎবিহীন প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌরশক্তির উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে-১০,১৮৫টি এবং ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে সোলার সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩,২০৮ টি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে।
সৌরবিদ্যুতায়িত সড়কবাতি স্থাপন: পিডিবিএফ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুতায়িত সড়কবাতি স্থাপন করে। পিডিবিএফ টিআর/কাবিট প্রকল্পের মাধ্যমে ১,৮৮৯টি এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬,৯৫৪টি সৌরবিদ্যুতায়িত সড়কবাতি স্থাপন করে। এছাড়াও বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরো ৫টি সৌরবিদ্যুতায়িত সড়কবাতি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৭২ সনে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির প্রবর্তনের ক্রমধারায় ১৯৮২ সনে অভ্যূদ্বয় ঘটে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর। বিআরডিবি’র সফল প্রয়াস থেকে ১৯৯৯ সনে জন্ম হয় এক অনন্য সংস্থার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় সৃষ্ট এ স্বাতন্ত্র সূচক প্রতিষ্ঠানটির নাম পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)। এ প্রতিষ্ঠানের রূপকল্প: ‘পল্লীর দরিদ্র্য ও অসুবিধাগ্রস্ত’ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন’। পিডিবিএফ গত দু’দশকে পল্লীর দরিদ্র ও অসুবিধাগ্রস্ত’ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অভিলক্ষ্যে সামাজিক বিনির্মাণ ও সংহতি সৃষ্টি, নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা বিধান, জনগণের ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় আহরণ ও নব সম্পদ সৃজনে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ ও নিজস্ব সঞ্চয়ের পরিকাঠামোর উপর সংহতি শক্তি যোজনের মাধ্যমে এ সংস্থা এককভাবে সঞ্চয়ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সরকারি খাতের সর্ববৃহৎ উৎস হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেছে ইতিমধ্যেই।
বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারির অভিঘাত বিপন্ন করে তুলে মানুষের জীবন ও জীবিকা । কোভিডের প্রাদূর্ভাবে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেমন নেমে আসে এক অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়, তেমনি এর প্রকোপ পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবন-যাপন, উপজীবিকা, আয় ও অবলম্বন, সহায় ও সম্পদ এবং অস্তিত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে । এ প্রেক্ষাপটে সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রবর্তিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে পল্লী এলাকার কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে লক্ষ্য করে ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য পিডিবিএফ এর অনুকূলে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করেছেন এবং ইতোমধ্যে এ তহবিলের সম্পূর্ণ অর্থ বিতরণ সুসম্পন্ন হয়েছে।

মূলত: পিডিবিএফ প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে অনানুষ্ঠানিক দল ও ব্যক্তি গ্রাহক পর্যায়ে সংগঠিত করে আয় উৎসারি, বৃত্তিমূলক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ক্ষুদ্র ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ ও নারী উদ্যোক্তা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক সেবা বলয়ভূক্ত করেছে। পিডিবিএফ সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১-এর পরিপূর্ণ রূপায়ণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের মূল ধারার কার্যক্রম এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রয়াস পরিচালনা করছে। একই সাথে পিডিবিএফ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন, ২০৩১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণ, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের পর্যায়ে অভিষেক এবং ২১০০ সালের মধ্যে পরিকল্পিত ও নিরাপদ ব-দ্বীপে রূপান্তরের কাঙ্খিত লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত কার্যধারা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
পিডিবিএফ ক্ষুদ্র ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ ও নারী উদ্যোক্তা ঋণ এবং সাপ্তাহিক সাধারণ সঞ্চয়, মাসিক সোনালী সঞ্চয়, লাখপতি সঞ্চয়, নবজাতক সঞ্চয় ও মৃত্যু ঝুঁকি বীমা এবং সৌরশক্তি প্রকল্পের কার্যক্রম অনুসরণের মাধ্যমে পল্লীর জনগণ ও জনপদের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন এবং সঞ্চয়ের সম্পদ সৃজনে ব্যাপৃত রয়েছে। একই সাথে পিডিবিএফ সুফলভোগীদের জন্য আয় উৎসারী ও সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। এছাড়া, পিডিবিএফ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য গ্রামীণ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের শস্য সংগ্রহ পরবর্তী সহযোগিতার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং পতিত পুকুর সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য চাষ বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। পিডিবিএফ-এর মূল ধারার কার্যক্রম এবং প্রকল্পের আওতায় ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং সঞ্চয় আহরণের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা ও তত্ত্বাবধায়ন প্রথাগত রূপরেখায় চলমান রয়েছে। বহিঃ উৎস হতে নতুন তহবিল যুক্ত না হওয়ায় মূলত: সুফলভোগীদের সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করে পিডিবিএফ গত দু’দশকে যে আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে, তাই পিডিবিএফ-এর পল্লী অর্থায়ন পরিকল্পনার মৌল ভিত্তি। তাসত্ত্বেও পিডিবিএফ ঋণ বিতরণ, আদায়, সঞ্চয় আহরণ এবং স্বাভাবিক স্থিতি রক্ষার মাধ্যমে ভারসাম্য সূচক অবস্থান রক্ষা করে। এক কথায় পিডিবিএফ দারিদ্র বিমোচনে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য,১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদের ২৩ নং আইনের মাধ্যমে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৯ সালের ০৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর ১৯৯৯ সালের ১০ নভেম্বর ২৩ নং আইন হিসাবে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৯৯ সালের আইন প্রণয়নের পর ২০০০ সালের ৩০ শে এপ্রিল পিডিবিএফ এর কার্যক্রম শুরু হয়। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন আইন পাশের পর সিডার সাথে প্রথম ফাউন্ডেশনের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর